Screenshot 2017-01-18 19-04-32

মহাসচিবের ভাষণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির(ওএসবি)-র ৪৩তম বার্ষিক জাতিয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক মোঃ সারফুুদ্দিন আহমেদ।প্রধান অতিথি গনপ্রজাতন্ত্রী শেখ হাসিনা,বিশেষ অতিথি জনাব মোহাম্মদ নাসিম, এমপি,মাননীয় মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়, গনপ্রজতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সিনিয়র চক্ষু বিশেষজ্ঞগন,সারাদেশ থেকে আগত ওএসবি সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ, পিন্ট ও ইলেকট্রনিক্র থেকে আগত সাংবাদিক সকল উপস্থিত সূধী মন্ডলী ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গন, আসসালামুয়ালাইকুম।
মার্চ আমাদের জাতির ইতিহাসে একটি গেীরবোজ্জ্বল মাস।আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়েছিল এই মাসে।আমি গভীর শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করছি ১৯৭১ ইং সালে স্বাধীনতা আন্দোলনে বীর শহীদদের।স্মরন করছি জাতির জনক বঙ্গবন্দু শেখ মজিবুর রহমানকে।
আজকের এই ৪৩তম জাতীয় সম্মেলনে শ্রধাভরে স্মরন করছি বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির প্রয়াত সভপতি অধ্যাপক এম এ জলিল, অধ্যাপক মোঃ মোবারক আলী, অধ্যাপক এ কিউ এস এম হারুর, অধ্যাপক মোঃ হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক এম এ মতিন, অধ্যাপক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক এ এইচ সাইদুর রহমান সহ সমিতির প্রয়াত সকল সদস্য ও সদস্যাবৃন্দকে। আমি আরো স্মরণ করছি এই সোসাইটির সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক মোঃ সালেউদ্দিন , অধ্যাপক এ এম এ হাদী ফকির, অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছেস আলী, অধ্যাপক আভা হোসেন। অধ্যাপক দীন মোহাঃ নুরুল হক এবং অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন কে।
সুধীবৃন্দ,
শত রাষ্ট্রীয় কর্ম ব্যস্ততার মাঝে ও আজকের এই উদ্বোধনী প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি , আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়ে আমাদের অনুপ্রানিত ও মহিমান্বিত করেছেন, আমি এবং আমার সোসাইটির পক্ষ থেকে তাদেরকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।বিশেষ কওে আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কর্ম ব্যস্ততার মাঝে ও আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়ে আমাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করেছেন, এবং কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করেছেন।
আমি সকল অতিথিবৃন্দ,সমিতির সকল সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ ও সম্মানিত সুধীবৃন্দকে জানাই আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা,স্বাগতম এবং প্রাণঢালা অভিনন্দন।
সুধীমন্ডলী,

বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদেও প্রাণপ্রিয় সংগঠন।১০০০ জনের বেশি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত এই সমিতির রয়েছে ঐতিহ্য মন্ডিত সোনালী অতীত,সুসংহত সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সুন্দর ভবিষ্যৎ।
মিরপুর ২নং সেকশনে নিজস্ব জমিতে অবস্থিত বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির নিজস্ব ভবন,চারতলা সুপরিসর ওএসবি ভবরেন নিচতলা দ্বিতীয়তলা জুড়ে পরিচালিত হচ্ছে ওএসবি চক্ষু হাসপাতাল।তৃতীয় তলায় অবস্থিত বাংলাদেশের প্রথম ল্যাসিক সেন্টার, ওএসবি লেজার ভিশন সেন্টার।চতুর্থ তলায় অবস্থিত সমিতির কেন্দ্রীয় অফিস ও এর প্রধান অংঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশে একাডেমী অব অফথ্যালমোলজী ,ও বি. এফ.টি অফিস।আপনারা জেনে খুশি হবেন,ওএসবি চক্ষু হাসপাতালটি একটি আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল,যেখানে ১১জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত আছেন।১জন স্বনামধন্য শিক্ষক ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচালক ও চীফ কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এখনো চক্ষু পরিক্ষা,রোগ নির্ণয় ফ্যোকো সার্জারীসহ সকল প্রকার চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশন করার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে।হাসপাতালের কার্যক্রমকে সার্বক্ষনিক করার জন্য ১টি জেনারেটরসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা সোসাইটির অংঙ্গ সংগঠন হিসাবে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ একাডেমী অব অফথ্যালমোলজী। বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসার আধুনিকায়ন,ডাক্তারদের উন্নতমানের প্রশিক্ষন দান ও সর্বোপরি দেশের মানুষের চক্ষু পরিচর্য্যা ও আধুনিক চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্যা করাই এর মূল লক্ষ্য।এই প্রতিষ্ঠানটির অভিষ্ট লক্ষ্যে পেীছাতে সকলের আগ্রহ অনুযায়ী ওএসবি এর লক্ষ্যে বাংলাদেশ অব অফথ্যালমোলজী প্রতিষ্ঠা করা।
সারা বিশ্বে অফথ্যালমোলজী আজ বিভিন্ন সাবস্পেশালিটিতে বিভক্ত হয়ে সেবা প্রদান করছে।আমাদেও দেশেও এর ক্রমাগত অগ্রগতি হচ্ছে।ইতিমধ্যে বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটি ,বাংলাদেশ ইউভিয়া সোসাইটি , বাংলাদেশ কমিউনিটি অফথ্যালমোলজীকেল সোসাইটি,কর্নিয়া সোসাইটি,অকুলোপ্লাষ্ঠি সোসাইটি, ভিট্রিও রেনিটা সোসাইটি,ক্যাটারেক্ট রিফ্রাকটিব সার্জারী সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।এই সব সোসাইটির সাবস্পেশালিটির মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা সেবায় আর্ন্তজাতিক মানের চিকিৎসা প্রদান করছে।
বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির বেনোভেলেন্ট ফান্ড ট্রাষ্ট্র বি.এফ.টি গঠিত হয়েছ।এর মাধ্যেমে সমিতির সদস্যবৃন্দ প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা পাবেন।
ওএবি-ও নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে। www.osb.com.bd ওয়েবসাইট সমিতির সকল সদস্য ও সদস্যাবৃন্দের তথ্য সহ সমিতির যাবতীয় তথ্য ও বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক কনফারেন্স সমূহের তথ্য সংযুক্ত রয়েছে।ইতি পূর্বে প্রকাশিত ওএবি-ও ডাইরেক্টরীটি নতুন ভাবে আপডেট করা হয়েছে।প্রায় বিগত বছরের ন্যায় ১৫০ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ওএসবি-ও নতুন সদস্যপদ লাভ করেছেন।
মাননীয় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং চিকিৎসকবৃন্দ আপনাদের সদয় অবগতি ও সুদৃষ্টি কামনা করছি যে,আমাদের দেশে চক্ষু চিকিৎসার প্রচুর অপ্রতুলতা রয়েছে।নবীন চিকিৎসকগন চক্ষু বিশেষজ্ঞ হওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন।কারন চক্ষু চিকিৎসা পেশায় আধুনিক যক্রপাতির ব্যবহার এবং এর মূল্যও অনেক বেশি।চক্ষু চিকিৎসার জন্য স্বল্প পরিসরে এবং স্বল্প ব্যয়ে অপারেশান থিয়েটার সহ চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তুলতে সরকারের প্রতিবন্দক নীতিমালা, চক্ষু বিজ্ঞান বিষয়ে উপযুক্ত পদ ও প্রমোশনের অপ্রতুলতা।বাংলাদেশে অনেক গ্রামে হারের ডাক্তার কর্তক চক্ষু চিকিৎসা প্রদান করাও সুচিকিৎসা প্রদানের অন্যতম অন্তরায়।এই সকর সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য নবীন ডাক্তারদের উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের চেম্বারের পাশাপাশি স্বল্প পরিসরে কম ব্যায়বহুল ডে-কেয়ার সার্জরী করার উপযুক্ত অপারেশান থিয়েটার স্থাপনের অনুমতি দেয়া। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের সুষম পদ সৃষ্টি ও নিয়োগদান এবং বেসরকারী উদ্যোগকে স্বাগত জানানো প্রয়োজন।সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভিশন ২০২০ বাস্তবায়নের নিমিত্তে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসার যক্রপাতি আমদানী শুল্ক মুক্ত করা প্রয়োজন।যাতে নবীন চিকিৎসকগন এই সুবিধা গ্রহন করতে পারে। যদি্ও আমরা এই পদক্ষেপ সমূহ বাস্তবাযন করতে পারি, তাহলে কেবল জনগনের দোরগোড়ায় চক্ষু পরিচর্য্যা সেবার সুফল পেীছে দেয়া সম্ভব।
সম্মানিত উপস্থিতি,
বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতি এর হাসপাতালটি একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি ডিপিপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে জমা দেয়া আছে। এর অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের জন্য সোসাইটির পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবিন্দের সুপরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করছি।

I want to express my gratitude and special thanks to the foreign delegates who took all the troubles to join the conference specially to the prestigious, “ Alim Memorial Lecturer ” Dr. M. C. Nahata for the participation in the 43rd Annual National  Conference of Ophthalmological Society Of Bangladesh (OSB).
পরিশেষে সকল অতিথিবৃন্দকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জানিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ওএসবির সদস্য ও সদস্যবৃন্দেকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং বৈজ্ঞানিক অধিবেশন সোস্যাল প্রোগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার আমন্ত্রন জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
আল্লাহ হাফেজ ।
অধ্যাপক আনিসুর রহমান আনজুম
মহাসচিব