Prof. Md. Sharduddin Ahmed

সভাপতির ভাষণ

বিসমিল্লাহীর রাহমানির রাহিম

বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির ৪৩তম বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের সম্নানিত প্রধান অতিথি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গনতন্ত্রের মানস কন্যা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য সন্তান, জননেত্রী শেখ হাসিনা ।বিশেষ অতিথি মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জননেতা জনাব মো. নাসিম এমপি. উপস্থিত আমার সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, উপস্থিহ সহকর্মী বৃন্দ, আপনারা সকলেই আসার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গ্রহন করুন।

আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননত্রেী শেখ হাসিনা। শত ব্যস্ততার মাঝেও আপনি আমাদের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। এ আমাদের এক বিরল সৌভাগ্য। আপনার উপস্থিতিতে আমরা গৌরবান্বিত। আপনার প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ ও চিরঋণি।

আজ মার্চ্ মাসের এমন এক সময় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন আমরা আর কিছুদিনের মধ্যে উদযাপন করবো মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস। আগামিকাল আমরা পালন করবো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস যা জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হবে। এমন মহেন্দ্রখনে দাড়িয়ে আমি স্মরণ করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গনতান্ত্রিক সকল আন্দোলনের শহীদ শূন্যতাকে, স্মরণ করছি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সাথে শাহাদত বরণকারী পরিবারের সকল সদস্যকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজমুদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান কে একই সাথে স্মরণ করছি প্রয়াত চক্ষু চিকিৎসক ও সমিতির প্রাক্তন সভাপতিবৃন্দকে। বিশেষ করে অধ্যাপক এইচ সাইদুর রহমান স্যারকে যিনি গত ২৮ জানুয়ারী ইন্তেকাল করেছেন।

আজকের অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জনাব মো. নাসিম এম.পি, মাননীয় মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়।আমি তার দীঘদিনের রাজনৈতিক কমকান্ডের এবং রাজপথে আন্দলনের সাথী। অন্ধত্ব নিবারণ ও চক্ষু পরিচর্যার বিভিন্ন কাযকর্মের আপনার দিক নির্দেশনা ও সদয় উপস্থিতি আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে।

অন্ধত্ব দূরীকরণ এবং চক্ষু সেবা সাম্প্রতিক সময়ে এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে । অন্ধত্ব এখন শুধু সামাজিক সমস্যা নয় । অন্ধত্ব অর্থনেতিক উন্নতির সাথে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক বৃন্দ তাদের সামাজিক ও অর্থনেতিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন। ছানি অপরেশনসহ অন্যান্য চক্ষু অপারেশন এর মাধ্যমে তারা বিপুল সংখ্যাক জনগোষ্ঠিকে অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা করে মূল ধারায় সম্পৃক্ত রাখতে পেরেছেন। সরকারি অবকাঠামো মানব সম্পদ ব্যবহার করে ইন্টারন্যাশণাল এনজিওদের সহযোগিতায় জেলা হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে ক্যাটারেক্ট সার্জারিসহ অন্যান্য চক্ষু চিকিৎসা সেবা সুলভ মূল্যে দেয়া হচ্ছে যা দেশের চক্ষু সেবায় অনন্য অবদান রাখছে। এ সাফল্য এসেছে ওএসবির সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহনে। আমি সহকর্মী সকল চক্ষু বিশেষজ্ঞদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন । এমন এক সংঘঠনের সভাপতি হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

মাননীয় প্রধান অতিথি, ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের সকল মানুষকে চক্ষু সেবার আওতায় এনে নিরাময়যোগ্য  অন্ধত্ব দূর করার এক মহাপরিকল্পনা শুরু হয়েছে। বিশ্বের ২০০ টির ও অধিক দেশের সাথে বাংলাদেশ ও আজ তার সাথে অংশীদার। ভিশন ২০২০ প্রোগ্রামকে সফল করার জন্য সমাজের নিঃস্ব, অসহায়, হতদরিদ্র কৃষক, শ্রমিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ সরকার পাবলিক প্রাইভেট, পার্টনারশীপ এ যে জাতীয় চক্ষু পরিচর্যা কার্যক্রম তৈরি করা হয়েছে তা এক নতুন মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপি সমাদৃত হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন আপনি জাতির জনকের কন্যা। বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের হাসি ফুটানোর জন্য আপনি রাজনীতি করেন। জাতির জনকের অসম্প্রদায়িক সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার মহান ব্রত আপনার। আপনার কাছে আমাদের চাওয়া অনেক বেশি। বাংলাদেশে ৭ লক্ষ মানুষ অন্ধ। প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ লোক নতুন করে অন্ধ হচ্ছে। আমরা ২০২০ সালের মধ্যে সবার চোখে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে চাই। বা্ংলাদেশের সকল চক্ষু চিকিৎসকরা আপনার নিদে্যশ অনুযায়ী সকলের চক্ষু সেবা নিচি্শত বদ্ধ পরিকর।

সম্মানিত চক্ষু চিকিৎসকবৃন্দ, নানা সীমাবদ্ধতার ভিতরে মানবিক দিক বিবেচনা করে আপনারা অন্ধত্ব দূরীকরণে যে মহান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আমি চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি হিসেবে গর্ববোধ এবং কৃতঞ্জতা প্রকাশ করছি।

আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমাদের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্যবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সদস্যবৃন্দ, আমি আশা করি আগামী দিনেও আমরা স্ব স্ব অবস্থানে থেকে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগণের চক্ষু চিকিৎসার কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। আপনাদের উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।

মাননীয় প্রধান অতিথি, জাতির জনককে আমরা আমাদের হৃদয়ের মনি কোঠায় চিরদিনের জন্য স্থান করে নিয়েছি। চক্ষু চিকিৎসা সেবায় আপনার অবদানের জন্য এদেশের আপামর জনগন ও চক্ষু চিকিৎসকবৃন্দ আপনাকে নয়ন মনি করে রাখবে। চক্ষু চিকিৎসকদের জন্য আমি আপনার কাছে বিশেষ কিছু চাই না। আমার বিশ্বাস না চেয়েও আপনার কাছে অনেক বেশী পাওয়া যায়। তবে চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চক্ষু চিকিৎসকদের চক্ষু সেবা প্রদানের সকল সুযোগ সুবিধা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করবেন বলে আমি আশা করি। আপনার সদয় বিবেচনার জন্য চক্ষু বিষয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি শুল্ক মুক্ত করা এবং ও এস বি চক্ষু হাসপাতালকে Centre of Excellence করার যে ‍উদ্যোগ নে্ওয়া হয়েছে তাতে সরকারী অনুদানের ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে যাচ্ছি।

পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার এই মহিমান্বিত উপস্থিতি আমাদের সম্মেলনকে আলোকিত করেছে এরং আমাদের নতুভাবে উদ্ভূদ্ধ করছে। আল্লাহ আপনার সহায় হোন। আপনি দীর্ঘদিন আমাদের মাঝে বেচে থাকুন। জাতির জনকের স্বপ্নপূরনে আমরা আপনার সাথে আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ্।

জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবি হউক

অধ্যাপক ডাঃ মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

সভাপতি

বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতি